September 2, 2026, 10:59 pm
জাপানের পূর্ব উপকূলে ১০ বছর আগে মার্চের এক শুক্রবার সকালে শক্তিশালী এক ভূমিকম্প আঘাতে তছনছ হয়ে যায় ফুকুশিমার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
৯ মাত্রার ওই ভয়াবহ ভূমিকম্পের জেরে সুনামি তৈরি হয়; আর তাতে কার্যত ভেসে যায় হংসু দ্বীপ এবং মারা যায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষ। খবর বিবিসির।
সুনামির বড় ধরনের ঢেউ আঘাত হানে ফুকুশিমা বিদ্যুৎকেন্দ্রে এবং এতে পারমাণবিক চুল্লি প্লাবিত হয়ে বড় ধরনের বিপর্যয়ের সূত্রপাত ঘটায়।
ওই কেন্দ্রটি থেকে তেজস্ক্রিয় বিকিরণ হওয়ায় কর্তৃপক্ষ একটি এক্সক্লুসিভ জোন তৈরি করে। ফলে আশপাশের এলাকা থেকে দ্রুত প্রায় দেড় লাখ মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়।
ওই ঘটনার এক দশক পরও ওই এক্সক্লুসিভ জোনটি যেমন ছিল, তেমনই আছে এবং সেখানকার বেশিরভাগ অধিবাসী আর ফিরে আসেনি।
কর্তৃপক্ষের ধারণা সেখানকার কাজ শেষ করতে অন্তত ৪০ বছর সময় লাগবে এবং এর জন্য জাপানে ইতোমধ্যে ব্যয় হয়েছে কয়েক ট্রিলিয়ন ইয়েন।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটি জাপানের ফুকুশিমার ওকুমা শহরে, যা দেশটির পূর্ব উপকূলীয় এলাকায়। তবে রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
২০১১ সালের ১১ মার্চ স্থানীয় সময় বেলা পৌনে ৩টায় ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। আঘাত হানার মূল জায়গাটি ছিল ওই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে মাত্র ৯৭ কিলোমিটার দূরে সেন্দাই শহরে।
উপকূলে সুনামি আঘাত হানার আগে সতর্ক হওয়ার জন্য মাত্র ১০ মিনিট সময় পেয়েছিলেন সেখানকার অধিবাসীরা।
ভূমিকম্প, সুনামি ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুর্ঘটনার কারণে সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষকে তাদের বাড়িঘর ছাড়তে হয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির সিস্টেম থেকে ভূমিকম্প চিহ্নিত হয়েছিল এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পারমাণবিক চুল্লি বন্ধ হয়েছিল। তবে কুলিং সিস্টেম চালিয়ে যাওয়ার জন্য জরুরি ডিজেল জেনারেটরগুলো চালু হয়ে যায়।
কিন্তু প্রায় ১৪ মিটার বা ৪৬ ফুট উঁচু ঢেউ ফুকুশিমায় আঘাত হানার পর পুরো কেন্দ্র পানিতে সয়লাব হয়ে যায় এবং জরুরি জেনারেটরগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।
কর্মীরা বিদ্যুৎ পুনরায় চালুর জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন; কিন্তু এর মধ্যেই রিয়েক্টরের মধ্যে পারমাণবিক ফুয়েল প্রচণ্ড গরম হয়ে যায় এবং কোরের একটি অংশ গলে যায়।
এর পর ওই কেন্দ্রে কয়েকটি রাসায়নিক বিস্ফোরণ হয়, যাতে পুরো ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।